রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি

রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি, এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই ঘুরপাক খায়। ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোন স্ক্রল করার অভ্যাস কি সত্যিই আপনার বিশ্রাম নষ্ট করছে? অনেকেই ছোট্ট একটি পরিবর্তন করে ঘুমের মানের বড় পার্থক্য দেখতে পেয়েছেন।

রাতে-ফোন-না-দেখলে-ঘুম-ভালো-হয়-কি

সকালে ফ্রেশ অনুভব করার পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে একটি সহজ অভ্যাস। বিজ্ঞান কী বলে, আর বাস্তবে মানুষ কী অভিজ্ঞতা পেয়েছে, তা জানুন সহজ ভাষায়। পুরো আর্টিকেলটি পড়লে হয়তো আজ রাত থেকেই আপনার ঘুমের রুটিন বদলে যেতে পারে।

পেজ সূচিপত্রঃ রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি

রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি

রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি? এই প্রশ্নটা আপনার মাথায় নিশ্চয়ই একবার হলেও এসেছে। বিছানায় শুয়ে ঘুম আসছে না, তাই ফোন তুলে নিলেন। রিলস দেখতে দেখতে কখন যে রাত ২টা বেজে গেছে টেরই পাননি। এটা শুধু আপনার গল্প না। আজকাল প্রায় সবার রাতটা এভাবেই শেষ হয়। ফোন রেখে ঘুমাতে যাওয়া যেন একটা কঠিন কাজ হয়ে গেছে। অথচ একটু ভাবুন, আগে যখন স্মার্টফোন ছিল না, তখন মানুষ কত শান্তিতে ঘুমাত। ফোনের স্ক্রিন থেকে যে নীল আলো বের হয়, সেটা আপনার মস্তিষ্ককে ধোঁকা দেয়। মস্তিষ্ক ভাবে এখনো দিন আছে, ঘুমানোর সময় হয়নি।

তাই মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ কমে যায়, যেটা আসলে আপনাকে ঘুম পাড়ানোর কাজ করে। ফলে চোখ থাকে খোলা, মাথা থাকে জেগে। শুধু ঘুম দেরিতে আসাটাই সমস্যা না। ঘুমের গভীরতাও কমে যায়। আপনি হয়তো ৭-৮ ঘণ্টা শুয়ে থাকলেন, কিন্তু সকালে উঠে মনে হলো ঠিকমতো ঘুমাননি। কারণ গভীর ঘুমের মধ্যে শরীর যেভাবে রিকভার করার কথা, সেটা হয়নি। রাতে ফোন না দেখলে আসলে কী হয় জানেন? শরীর নিজে থেকে একটা ছন্দে ফেরে। ঘুম তাড়াতাড়ি আসে, ঘুমটা গভীর হয়। সকালে উঠতে কম কষ্ট লাগে। মাথা থাকে ঝরঝরে। এটা কোনো তত্ত্ব না, যারা একবার চেষ্টা করেছেন, তারাই এ কথা বলেন।
এখন প্রশ্ন হলো - ফোন রাখবেন কখন থেকে? বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঘুমের অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উচিত। মানে রাত ১০টায় ঘুমাতে চাইলে রাত ৯টার পর ফোন সাইলেন্ট করে রেখে দিন। শুরুটা কঠিন লাগবে, সেটা স্বাভাবিক। প্রথম কয়েক রাত হয়তো অস্বস্তি লাগবে। হাত আপনা-আপনি ফোনের দিকে যেতে চাইবে। কিন্তু ওই সময়টায় একটা বই পড়ুন, হালকা গান শুনুন বা শুধু শুয়ে থাকুন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে নিজেই পার্থক্যটা টের পাবেন।

ঘুম ভালো হলে শুধু শরীর না, মনটাও ভালো থাকে। মেজাজ ঠিক থাকে, কাজে মনোযোগ আসে, অকারণ বিরক্তি কমে। রাতের ফোন স্ক্রলিং আর সকালের ক্লান্তি-এই দুটো আসলে একই সুতোয় বাঁধা। একটা বন্ধ করলে অন্যটা এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়। শেষ কথা হলো - আপনি চাইলেই এই অভ্যাসটা বদলাতে পারেন। বড় কোনো পরিবর্তন না, শুধু রাতে ঘুমানোর আগে ফোনটা একটু দূরে রাখুন। নিজেকে একটু সুযোগ দিন। ঘুমটা আপনার শরীরের সবচেয়ে বড় ওষুধ - সেটাকে মূল্যায়ন করতে হবে।

ফোন ও ঘুমের সম্পর্ক

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফোনটা হাতে নেওয়ার পর কতক্ষণ কেটে যায়? মিনিট পাঁচেক ভাবলেও আসলে ঘণ্টা পেরিয়ে যায়। এই ছোট্ট অভ্যাসটাই আপনার ঘুমের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছে, অথচ আপনি হয়তো বুঝতেই পারছেন না। ফোনের স্ক্রিন থেকে যে নীল আলো বের হয়, সেটা আপনার মস্তিষ্ককে সরাসরি প্রভাবিত করে। মস্তিষ্ক ভাবে এখনো দিনের আলো আছে, তাই ঘুম পাড়ানোর হরমোন মেলাটোনিন ঠিকমতো তৈরি হয় না। ফলে চোখ ভারী হয়, কিন্তু ঘুম আসে না। এই অদ্ভুত অবস্থায় আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থাকেন। শুধু ঘুম দেরিতে আসাটাই সমস্যা না, ঘুমের কোয়ালিটিও নষ্ট হয়ে যায়।

আপনি হয়তো রাত ১২টায় ঘুমিয়ে সকাল ৭টায় উঠলেন - ৭ ঘণ্টা শুয়েও মনে হচ্ছে শরীরে এনার্জি নেই। কারণ গভীর ঘুমের যে ধাপে শরীর আসলে রিকভার করে, সেখানে পৌঁছাতেই পারেননি। ফোন আর ঘুমের এই সম্পর্কটা একটু জটিল, কারণ ফোন শুধু আলো দিয়ে না, কনটেন্ট দিয়েও মাথাকে সজাগ রাখে। একটা রিলস শেষ হলে আরেকটা আসে, একটা নোটিফিকেশন পড়লে মাথায় চিন্তা ঘুরতে থাকে। মস্তিষ্ক তখন আর বিশ্রামের মোডে নেই, পুরোদমে কাজ করছে। এই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন, কিন্তু অসম্ভব না। আপনি যদি একবার সত্যিকার অর্থে ফোন ছাড়া একটা রাত কাটান, পরদিন সকালে যে ফ্রেশনেস অনুভব করবেন - সেটাই আপনাকে বুঝিয়ে দেবে ফোন আর ঘুমের সম্পর্কটা আসলে কতটা গভীর।

ফোনের ব্লু লাইটের প্রভাব

আপনি হয়তো জানেন না, কিন্তু রাতে ফোনের দিকে তাকানোর মুহূর্তে আপনার চোখের ভেতরে একটা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ব্লু লাইট সরাসরি রেটিনার বিশেষ কোষগুলোকে উত্তেজিত করে, যেগুলো মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে এখনো জেগে থাকার সময়। শরীর তখন ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়ার বদলে সতর্ক অবস্থায় চলে যায়, ঠিক যেন দুপুরের কড়া রোদে বসে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই ব্লু লাইটের সংস্পর্শে থাকলে শুধু রাতের ঘুমই না, আপনার চোখের স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রাতে-ফোন-না-দেখলে-ঘুম-ভালো-হয়-কি

চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, এমনকি দৃষ্টিশক্তিতে ক্লান্তি - এগুলো কিন্তু এমনি এমনি আসে না। রাতের পর রাত ফোনের আলোয় চোখ রাখার এটাই স্বাভাবিক পরিণতি, যেটা আপনি হয়তো এতদিন অন্য কারণে হচ্ছে ভেবে এড়িয়ে গেছেন। চোখের পাতা কম পড়লে চোখের আর্দ্রতা কমে যায়, একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের পেশিগুলো ক্রমাগত চাপে থাকে। এই চাপ জমতে জমতে একসময় চোখের দৃষ্টিশক্তিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যাদের বয়স কম তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বেশি। আপনি কি চশমা পরতে চান না বা চোখের ডাক্তারের কাছে বারবার যেতে চান না? তাহলে রাতে ফোন থেকে দুরে থাকার অভ্যাসটা এখনই শুরু করুন।

মেলাটোনিন কীভাবে কাজ করে

মেলাটোনিনকে আপনি চাইলে শরীরের প্রাকৃতিক ঘুমের ঘড়ি বলতে পারেন। সন্ধ্যার পর যখন চারপাশ অন্ধকার হতে শুরু করে, তখন আপনার মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি এই হরমোনটা তৈরি করা শুরু করে। ধীরে ধীরে রক্তে মেলাটোনিনের মাত্রা বাড়তে থাকে, শরীর সংকেত পায় যে এবার বিশ্রামের সময় হয়েছে। চোখ ভারী হয়, শরীরের তাপমাত্রা একটু কমে, মাংসপেশি শিথিল হয় - এই পুরো প্রক্রিয়াটা আসলে মেলাটোনিনই নিয়ন্ত্রণ করে। প্রকৃতি নিজেই আপনার জন্য এই ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছে, শুধু আপনাকে সেটাকে কাজ করতে দিতে হবে।

সমস্যা হয় যখন আপনি এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বাধা দেন। রাতে যখন উজ্জ্বল আলোর সামনে বসে থাকেন, বিশেষ করে ফোন বা ল্যাপটপের সামনে, তখন মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। পিনিয়াল গ্রন্থি ভাবে এখনো দিনের আলো আছে, তাই মেলাটোনিন তৈরি থামিয়ে দেয় বা একদম কমিয়ে ফেলে। ফলে আপনি ক্লান্ত থাকলেও ঘুম আসতে চায় না, শরীর ঘুমের মুডে ঢুকতে পারে না। এটা অনেকটা গাড়ির ইঞ্জিন চালু রেখে ব্রেক কষে রাখার মতো - শরীর ক্লান্ত হচ্ছে, কিন্তু ঘুম হচ্ছে না।

ফোন ছাড়া ঘুমের উপকারিতা

আপনি যদি একবার সত্যিকার অর্থে ফোন ছাড়া ঘুমানোর অভ্যাস করেন, তাহলে প্রথম যে পরিবর্তনটা টের পাবেন সেটা হলো সকালে ওঠার অনুভূতি। ঘড়ির অ্যালার্মের আগেই চোখ খুলে যাবে, শরীর হালকা লাগবে, মাথায় কোনো ভার থাকবে না। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, ফোন ছাড়া ঘুমালে শরীর তার স্বাভাবিক ঘুমের চক্র পুরোপুরি সম্পন্ন করতে পারে। গভীর ঘুমের মাধ্যমে শরীরের কোষগুলো মেরামত হয়, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্যগুলো গুছিয়ে নেয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটা তখনই ঠিকমতো কাজ করে, যখন ঘুমের মাঝে কোনো বাধা থাকে না।

শুধু শরীর না, মনের উপরেও এর প্রভাবটা আপনি খুব দ্রুত অনুভব করবেন। ফোন ছাড়া ঘুমানো শুরু করলে দেখবেন দিনের বেলা অকারণ উদ্বেগ কমে গেছে, মনোযোগ আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থির থাকছে। কাজের মাঝে বারবার ফোন চেক করার যে তাড়না ছিল, সেটাও আস্তে আস্তে কমে আসে। আসলে রাতের ভালো ঘুম আপনার পুরো দিনটাকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়, মেজাজ নিয়ন্ত্রণে থাকে, এমনকি সম্পর্কগুলোতেও একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। ছোট একটা অভ্যাস বদলে জীবনে এতটা পার্থক্য আসতে পারে, এটা না করলে বিশ্বাসই করতে পারবেন না।

রাতে ফোন ব্যবহারের ক্ষতি

আপনি হয়তো ভাবছেন, রাতে একটু ফোন দেখলে আর কী এমন ক্ষতি হবে? কিন্তু এই ‘একটু’-র ভেতরেই লুকিয়ে আছে আসল বিপদ। রাতের পর রাত ঘুমের আগে ফোন ব্যবহার করলে শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যেটা মূলত স্ট্রেস হরমোন নামে পরিচিত। এই হরমোন বাড়লে শরীর একটা চাপের মধ্যে থাকে, রক্তচাপ বাড়ে, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি থাকে। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চললে উচ্চ রক্তচাপ, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনকি ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। মানে রাতের ওই এক ঘণ্টার স্ক্রলিং আসলে আপনার শরীরকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে।

শরীরের বাইরে মানসিক ক্ষতির দিকটাও কিন্তু কম গুরুতর না। রাতে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতে করতে অন্যের জীবনের হাইলাইট দেখে আপনার মনে অজান্তেই একটা তুলনা শুরু হয়ে যায়। এই তুলনাটা ঘুমের মধ্যেও মাথায় ঘুরতে থাকে, সকালে উঠেও একটা অস্বস্তি রয়ে যায়। গবেষণা বলছে যারা রাতে নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ আর বিষণ্নতার হার অনেক বেশি। আপনি হয়তো সচেতনভাবে এটা টের পাচ্ছেন না, কিন্তু প্রতিরাতের ওই স্ক্রলিং আপনার মনের শান্তিটুকু চুপচাপ কেড়ে নিচ্ছে।

কখন ফোন ব্যবহার বন্ধ করবেন

আপনি যদি রাত ১০টায় ঘুমাতে চান, তাহলে রাত ৯টার পর থেকেই ফোন রেখে দেওয়ার অভ্যাস করুন। মানে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে স্ক্রিনমুক্ত থাকাটা আদর্শ। এই এক ঘণ্টায় আপনার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে "বিশ্রামের মুডে" ঢুকতে শুরু করে, শরীরের তাপমাত্রা একটু কমে আসে এবং ঘুমের হরমোন নিজের গতিতে কাজ শুরু করে। অনেকে ভাবেন রাতে একটু নিউজ দেখা বা কাজের মেইল চেক করা ক্ষতিকর না - কিন্তু এই ছোট ছোট কাজগুলোই মস্তিষ্ককে আবার সক্রিয় করে দেয়। তাই সময়টা ঠিক করে নিন এবং সেটা মেনে চলুন।
শুধু সময় ঠিক করলেই হবে না, ফোনটা কোথায় রাখছেন সেটাও কিন্তু সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে ফোন বন্ধ না করে বালিশের পাশে রেখে ঘুমান। এটা সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটা। মাঝরাতে একটা নোটিফিকেশনের শব্দ বা আলো আপনার ঘুমের গভীর স্টেজটা ভেঙে দিতে যথেষ্ট। আপনি হয়তো সেটা মনে রাখবেন না, কিন্তু শরীর ঠিকই টের পায়। ফোনটা অন্য ঘরে রাখুন বা অন্তত বিছানা থেকে দূরে, যাতে হাত বাড়ালেই না পাওয়া যায়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, জরুরি কল বা অ্যালার্মের কী হবে? এই চিন্তাটাই আসলে বেশিরভাগ মানুষকে ফোন কাছে রাখতে বাধ্য করে। কিন্তু সমাধান আছে। একটা সাধারণ অ্যালার্ম ঘড়ি কিনে নিন - খরচ সামান্য কিন্তু উপকার অনেক। আর জরুরি কলের জন্য ফোনে "ডু নট ডিস্টার্ব" মোড চালু রাখুন, শুধু নির্দিষ্ট কিছু নম্বর থেকে কল আসলে বাজবে এই সেটিং করে দিন। এভাবে প্রয়োজনীয় সংযোগটুকু রেখেও রাতের শান্তিটা নিজের কাছে ধরে রাখা সম্ভব।

ঘুমের আগে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস

ফোন রেখে দেওয়ার পর হাত-পা গুটিয়ে শুধু শুয়ে থাকলেই কিন্তু ঘুম আসবে না। ওই সময়টাকে একটু অর্থবহভাবে কাটানো দরকার। ঘুমানোর আগে একটা বই পড়তে পারেন তবে থ্রিলার বা উত্তেজনাপূর্ণ কিছু না, এমন কিছু যেটা পড়তে পড়তে চোখ ভারী হয়ে আসে। চাইলে কয়েক মিনিট ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন, এটা মস্তিষ্কের চাপ কমায় এবং শরীরকে বিশ্রামের সংকেত দেয়। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মিলিয়ে একটা "নাইট রুটিন" তৈরি করুন - শরীর একসময় নিজেই বুঝে যাবে এই রুটিন শুরু হলে মানে ঘুমের সময় হয়েছে।

খাওয়া দাওয়ার দিকটাও কিন্তু ঘুমের সাথে সরাসরি জড়িত, অনেকে এটা আমলেই নেন না। ঘুমানোর অন্তত দুই ঘণ্টা আগে ভারী খাবার খাওয়া বন্ধ করুন, কারণ হজমের কাজ চলতে থাকলে শরীর পুরোপুরি বিশ্রামে যেতে পারে না। রাতে চা বা কফি এড়িয়ে চলুন কারণ ক্যাফেইন শরীরে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, মানে বিকেল ৪টার এক কাপ চাও রাতের ঘুমে প্রভাব ফেলতে পারে। বরং ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ খেতে পারেন, এটা শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শিথিল করতে সাহায্য করে। আপনার শরীর আসলে সামান্য যত্নেই অনেক ভালো সাড়া দেয়, শুধু সুযোগটা আপনাকে দিতে হবে।

ভালো ঘুমের সহজ উপায়

ভালো ঘুমের জন্য সবচেয়ে কার্যকর যে কাজটা আপনি আজই শুরু করতে পারেন, সেটা হলো প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ওঠা। শুনতে সহজ মনে হলেও বেশিরভাগ মানুষ এই একটা নিয়মই মানেন না। সপ্তাহে পাঁচদিন রাত ১১টায় ঘুমিয়ে সপ্তাহান্তে রাত ২টা পর্যন্ত জেগে থাকলে শরীরের ঘড়িটা বারবার এলোমেলো হয়ে যায়। আপনার শরীরের একটা নিজস্ব ছন্দ আছে, সেটাকে সম্মান দিন। ছুটির দিনেও চেষ্টা করুন স্বাভাবিক সময়ের এক ঘণ্টার বেশি এদিক-ওদিক না করতে। এই অভ্যাসটা একবার তৈরি হলে ঘুম আসতে আর কষ্ট হবে না।

রাতে-ফোন-না-দেখলে-ঘুম-ভালো-হয়-কি

আপনার ঘরের পরিবেশটাও ঘুমের মান-এ বিশাল ভূমিকা রাখে, অথচ এই বিষয়টা আমরা প্রায়ই উপেক্ষা করি। ঘর যত অন্ধকার হবে, ঘুম তত গভীর হবে - তাই মোটা পর্দা বা আই মাস্ক ব্যবহার করুন। শব্দের বিষয়েও সচেতন থাকুন, বাইরের শব্দ ঠেকাতে না পারলে হোয়াইট নয়েজ বা হালকা প্রকৃতির শব্দ ছেড়ে রাখতে পারেন। ঘরের তাপমাত্রা একটু ঠান্ডা রাখলে ঘুম তাড়াতাড়ি আসে, কারণ শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলেই মস্তিষ্ক ঘুমের সংকেত পায়। এই ছোট পরিবর্তনগুলো করতে টাকাও লাগে না, শুধু একটু সচেতনতা দরকার।

দিনের বেলার অভ্যাসগুলোও কিন্তু রাতের ঘুমকে সরাসরি প্রভাবিত করে, এটা অনেকেই জানেন না। সকালে বা বিকেলে অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন, শরীর যথেষ্ট পরিশ্রম করলে রাতে ঘুম এমনিতেই ভালো হয়। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী ব্যায়াম করবেন না, এতে শরীর উত্তেজিত হয়ে পড়ে। দিনে রোদে কিছুটা সময় কাটানোর চেষ্টা করুন, প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়িকে সঠিক রাখে। আপনার রাতের ঘুম আসলে সারাদিনের জীবনযাপনেরই একটা প্রতিফলন, দিনটা ঠিকমতো কাটালে রাতটা এমনিতেই সুন্দর হয়।

শেষ কথাঃ রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি

রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কিনা এই প্রশ্নের উত্তর এতক্ষণে নিশ্চয়ই পরিষ্কার হয়ে গেছে, এবং উত্তরটা হলো হ্যাঁ, অবশ্যই হয়। কিন্তু শুধু জানলেই তো হবে না, এই জানাটাকে কাজে লাগাতে হবে। আপনি এই লেখাটা যখন পড়ছেন, হয়তো রাতে শুয়ে ফোনটি হাতে নিয়েই লেখাটি পড়ছেন এবং এটা পড়ার পরেও হয়তো আরেকটা ট্যাব খুলবেন, আরেকটা রিলস দেখবেন। এটা দোষের কিছু না, এটা আসলে আপনার অভ্যাসের প্রতিফলন। কিন্তু অভ্যাস একদিনে তৈরি হয়নি, তায় একদিনেই ভাঙতে হবে এমনও না। শুধু আজ রাত থেকে একটু চেষ্টা করুন।

রাতে ঘুমানোর আগে ফোনটা একটু দূরে রাখুন, নিজেকে কিছুটা নিঃশব্দ সময় দিন। ধীরে ধীরে দেখবেন ঘুম গভীর হচ্ছে, সকালটা হচ্ছে তাজা, দিনটা হচ্ছে অনেক বেশি প্রাণবন্ত। আপনার শরীর আর মন দুটোই আসলে একটু বিশ্রাম চাইছে, সেই সুযোগ দেওয়াটা কিন্তু আপনার নিজের হাতেই আছে। ফোনটা রাখুন, চোখ বন্ধ করুন, বাকিটা শরীর নিজেই বুঝে নেবে। এছাড়া “রাতে ফোন না দেখলে ঘুম ভালো হয় কি”- এ সম্পর্কে যে কোনো মতামত বা জিজ্ঞাসা থাকলে কমেন্টে বক্সে প্রকাশ করুন। এমন আরও প্রয়োজনীয় তথ্য সম্বলিত বাংলা আর্টিকেল পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ইনফোটেক অ্যাডভাইজারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

Author Bio

Author
Tanzim Mahmud

একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট ও ইনফোটেক অ্যাডভাইজার লিমিটেড এর সিইও। SEO, ব্লগিং, অনলাইন ইনকাম ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। তার লক্ষ্য – পাঠকদের ডিজিটাল ক্যারিয়ারে সফল হতে সহায়তা করা।